স্বাস্থ্য

চোখের যত্নে আমাদের যা যা করণীয়

Eye Care
Written by Apurbo Hasan

চোখ আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অঙ্গ। অন্যান্য সব ইন্দ্রিয়ের চাইতে চোখ থেকেই সবচাইতে বেশি  অনুভূতি গ্রহণ করে মানুষের মস্তিষ্ক। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়াটা কোনো ভাবেই আমাদের জন্য ভালো হতে পারে না। চোখের দৃষ্টিশক্তিকে সব সময় ভাল রাখার জন্য আমাদেরকে খুব মনোযোগ দিয়ে চোখের যত্ন নিতে হবে।

পরিবারের ইতিহাস জানুন

চোখের কি ধরনের যত্ন নিতে হবে তা বুঝতে হলে অবশ্যই পরিবারের ইতিহাস জেনে নেয়া উচিৎ। কারণ পারিবারিক ভাবে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয় তা সমাধানের জন্য ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ডাক্তারকে আগে থেকে বলে রাখলে ভুল চিকিৎসা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

চশমা এবং কন্টাক লেন্সের নিয়মিত যত্ন নিন

অনেকেই চশমা এবং কন্টাক লেন্স ব্যবহার করেন। কিন্তু নিয়মিত যত্ন নেন না যা একেবারেই উচিৎ নয়। চশমার গ্লাসে দাগ পড়লে তা বদলে ফেলা জরুরী। কারণ এতে করে আপনার চোখের ক্ষতি হতে পারে। কন্টাক লেন্সের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্কতার প্রয়োজন। পরিষ্কার হাতে লেন্স ধরা উচিৎ এবং নিয়মিত স্যলুশন পরিবর্তন করা উচিৎ।

চিকিৎসা বন্ধ করবেন না

অনেকেই আছেন যারা চোখের সমস্যায় ভুগে ডাক্তারের কাছে যান এবং কোনো চিকিৎসা করতে দেয়া হলে এবং তা যদি সময় সাপেক্ষ হয় তবে কিছুদিন পড়ে চিকিৎসা থামিয়ে দেন। এই কাজটি ভুলেও করতে যাবেন না। চোখের জন্য এটি অনেক বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। চিকিৎসা নিয়মিত এবং পরিপূর্ণ ভাবে করা উচিৎ।

চোখকে ক্ষতিকর বস্তু থেকে দুরে রাখুন

অনেকেই এমন কাজ করেন যা চোখের জন্য বেশ ক্ষতিকর। যেমন যারা নানা ধরণের ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন তারা বিভিন্ন সময় কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসে পড়েন, আবার যারা প্রযুক্তি বেশি ব্যবহার করেন তারাও প্রযুক্তিগত পণ্যের ক্ষতিকর রশ্মির সংস্পর্শে আসেন। এইসকল ক্ষতিকর বস্তু থেকে চোখকে বাঁচান। কাজ করার সময় অবশ্যই চোখের জন্য প্রতিরক্ষামুলক বস্তু পড়ে নেয়া উচিৎ। বাইরে বের হলে অবশ্যই চখে সানগ্লাস পড়বেন। এতে সূর্যের রশ্মি ও ধুলোবালি থেকে রেহাই পাবেন।

ধূমপান ত্যাগ করুন

ধূমপানের কারণে চোখের নরম টিস্যু খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায়। এতে করে চোখের নানা মারাত্মক রোগ হয়। মলিকিউলার ডিগ্রেডেশন এবং চোখের ছানি পরার অন্যতম কারণ হচ্ছে ধূমপান। তাই পরিপূর্ণ ভাবে ধূমপান ত্যাগ করুন।

চোখের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার খান

চোখের জন্য ভালো এমন বেশ কিছু খাবার আছে, এগুলোকেই আপনি খেতে পারেন। লুটেইন এবং জিয়াজ্যান্থিন এই দুইটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে সবুজ শাক, ব্রাসেলস স্প্রাউট এবং ভুট্টায়। নিয়মিত এসব খাবার খেলে ছানি বা ক্যাটারাক্টের ঝুঁকি কমে যায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত।  এছাড়াও গাজর, ব্রকোলি, পালং শাক, সামুদ্রিক মাছ চোখের জন্য ভালো।

নিয়মিত চোখের ব্যায়াম করুন

শরীর সুস্থ রাখার জন্যে যেমন ব্যায়ামের দরকার, চোখ ভালো রাখতেও দরকার চোখের ব্যায়াম। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার জন্যে ও চোখের পরিচর্চার জন্যে শুধুমাত্র খাওয়া দাওয়ার উপর নির্ভর করলেই হবে না। আমাদের বর্তমান সময়ের জীবনযাত্রার ধরণ এমনই যে সহজেই চোখ আক্রান্ত হচ্ছে নানা সমস্যায়।

বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা, টিভি দেখা ও মোবাইল স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা এইসব আমাদের চোখের উপর ফেলছে স্থায়ী প্রভাব। এ কারণে চোখে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দেয়, যার মধ্যে চোখে ঝাপসা দেখা, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া, মাথা ব্যথা কিংবা চোখের পেশি চুলকানি উল্ল্যেখযোগ্য। শরীরের অতি মূল্যবান এই অঙ্গ চোখের সুস্থতার জন্যে দরকার বাড়তি যত্ন। যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ও মোবাইলে ফোন ইত্যাদির দিকে তাকিয়ে থাকেন তাদের জন্যে চোখের ব্যায়াম গুলো আরও জরুরী।

নিয়মিত চেকআপ করুন

চোখের কোনো সমস্যা না থাকলেও নিয়মিত চোখের চেকআপ করা প্রয়োজন। এতে করে চোখের আসল অবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখা যায় এবং কি করলে চোখের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব তা সম্পর্কেও ধারণা রাখা যায়।

About the author

Apurbo Hasan

Leave a Comment